Wednesday, December 01, 2010

ভোদাইচরিতমানস ০৮

ভোদাই আসিয়া কহিল, "একটি সামাজিক ব্যবসা খুলিব ভাবিতেছি।"

আমি কহিলাম, "বেশ তো। চমৎকার। কী লইয়া ব্যবসা করিবে?"

ভোদাই কহিল, "ঘোড়া পালিব।"

আমি থতমত খাইয়া কহিলাম, "ঘোড়া দিয়া সামাজিক ব্যবসা করিবে কীরূপে?"

ভোদাই সোৎসাহে কহিল, "গরীবের ঘোড়ারোগের নাম শুনিয়াছ?"

আমি কহিলাম, "না। কী হয় এই রোগে?"

ভোদাই কহিল, "এই রোগে ধরিলে গরীব ঘোড়া ক্রয়ের জন্য ক্ষেপিয়া ওঠে। কিন্তু দেশে পর্যাপ্ত ঘোড়া নাই। যা ছিল তাহা অ্যানথ্রাক্সে মরিয়া সাফ হইয়াছে। নতুন করিয়া ঘোড়া পালিব।"

আমি কহিলাম, "কিন্তু গরীব কীরূপে ঘোড়া ক্রয় করিবে?"

ভোদাই হাসিয়া কহিল, "কেন? ক্ষুদ্রঋণ লইয়া?"

আমি কহিলাম, "গরীব কেন ক্ষুদ্রঋণ লইয়া ঘোড়া কিনিবে?"

ভোদাই কহিল, "কী আপদ! তাহার ঘোড়ারোগ হইয়াছে। সে ঘোড়া কিনিবে না তো কী কিনিবে?"

আমি কহিলাম, "ঘোড়া কিনিয়া গরীব কী করিবে?"

ভোদাই কহিল, "দেশ হইতে দারিদ্র্য দূর করিবে, আবার কী?"

আমি কহিলাম, "গরীব ঘোড়া কিনিলে দেশ হইতে দারিদ্র্য দূর হইবে কীরূপে?"

ভোদাই অধৈর্য হইয়া কহিল, "তুমি তো আচ্ছা বুরবক হে! একটি জলজ্যান্ত ঘোড়ার মালিককে কি গরীব বলা যায়?"

আমি ভাবিয়া কহিলাম, "না .... কিন্তু ...।"

ভোদাই কহিল, "কোনো কিন্তু নাই। ঘোড়া ক্রয় করিবার পর গরীব আর গরীব থাকিবে না। ফলে দেশেও আর দরিদ্র থাকিবে না। দেশ হইতে দারিদ্র্য পাকাপাকিভাবে দূর হইবে।"

আমি কহিলাম, "কিন্তু গরীব সেই ক্ষুদ্রঋণ তাহার পর শোধ করিবে কীরূপে?"

ভোদাই কহিল, "উহা আমি কী করিয়া কহিব? উহা গরীবের মাথাব্যথা। সে ঘোড়া লইয়া সার্কাস দেখাইতে পারে, ঘোড়ার গাড়ি টানাইতে পারে, স্ত্রী ঘোড়ার গর্ভধারণের জন্য পুরুষ ঘোড়া ভাড়া দিতে পারে, ঘোড়ার মাংস গাবতলীর ভাতের হোটেলে গরু বলিয়া বিক্রি করিতে পারে, ঘোড়ার দুধ হইতে দই বানাইয়া অপুষ্ট শিশুদের কাছে বিক্রি করিতে পারে, ঘোড়ার চামড়া দিয়া লেদার জ্যাকেট বানাইয়া বেচিতে পারে ... কত শত উপায় আছে! তবে হাঁ! সুদ পরিশোধ করিতে না পারিলে উহার বাড়ির চাল খুলিয়া আনিব বলিয়া দিতেছি! সামাজিক ব্যবসায় নামিয়াছি, দাতব্য তো আর খুলি নাই!"

আমি কহিলাম, "ঘোড়া পালনের জন্য পুঁজি আছে তোমার কাছে?"

ভোদাই হাসিয়া কহিল, "নরওয়ের এক ব্যক্তির সহিত খাতির হইয়াছে ইদানীং। সে আশ্বাস দিয়াছে, টাকা অনুদান দিবে।"

আমি কহিলাম, "কিন্তু সামাজিক ব্যবসায় তোমার কী লাভ ভোদাই?"

ভোদাই ফিসফিস করিয়া কহিল, "অনুদানের টাকা ঘোড়া কম্পানিতে সরাসরি খাটাইব না ভাই মুখফোড়! প্রথমে ভোদাই এন্টারপ্রাইজে সেই টাকা সরাইয়া লইব! উহার পর ঘোড়া কম্পানি ভোদাই এন্টারপ্রাইজের নিকট হইতে সেই টাকা চড়া সুদে ঋণ করিবে। ঘোড়া কম্পানির মুনাফা হইতে সেই ঋণের সুদ জমা পড়িবে ভোদাই এন্টারপ্রাইজের হালখাতায়!"

আমি চমকিত হইয়া কহিলাম, "তুমি এত সূক্ষ্ম মারপ্যাঁচ শিখিলে কীরূপে?"

ভোদাই বিগলিত হাসিয়া কহিল, "দেশের শান্তির জন্য কিছু মারপ্যাঁচ তো শিখিতে হইবেই ভাই মুখফোড়!"

আমি কহিলাম, "তা কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির সহিত আলাপ করিয়াছ ব্যবসার আঁটঘাট লইয়া?"

ভোদাই কহিল, "হাঁ! জুলিয়ান আসাঞ্জ নামক এক অস্ট্রেলিয় বন্ধুর সহিত আলাপ করিলাম। তবে গত দুই সপ্তাহ যাবৎ তাহার কোনো খবর নাই। অসুখবিসুখ করিয়াছে বোধহয়।"

আমি তব্দা খাইয়া কহিলাম, "বল কী! .... তোমার এই পরিকল্পনা গোপন থাকিবে তো?"

ভোদাই পরম নিশ্চিন্তে চক্ষু বুঁজিয়া কহিল, "তা থাকিবে। জুলিয়ানের পেটে বোমা মারিলেও সে গুহ্য কথা ফাঁস করিবে না।"

2 comments:

G. M. Salahuddin said...

আপনার লেখার আমি একনিষ্ট ভক্ত।
আহা আপনার মত যদি লিখতে পারতাম।
আরো লিখুন।

G. M. Salahuddin said...

আপনার লেখার আমি একনিষ্ট ভক্ত।
আরো লিখুন।
শুভ কামনা।