Sunday, November 12, 2006

আমার বন্ধু আজিজ



১.

আমার বন্ধু আজিজ অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির লোক৷ কেন যে তাহার সঙ্গে বন্ধুত্ব করিতে গিয়াছিলাম ভাবিয়া আজ নিজের মনে আপসোস হয়৷

আজিজ কলেজে উঠিয়াই মদ খাইত, এবং মাগীবাজি করিত৷ সেই কথা সে গর্বভরে বলিয়াও বেড়াইতো৷ শুধু আমাদের বলিলে সমস্যা হইতো না, কিন্তু সে আমাদের গুরুজনদেরও বলিতো, আর বলিবেন না চাচা, সেইদিন মদের আড্ডায় গিয়া এমন ঝামেলায় পড়িয়াছিলাম ...৷ আমাদের পিঠেই স্যান্ডেল পড়িতো৷ বিনা দোষে৷

আজিজ সিক্ত নেশার পাশাপাশি শুষ্ক নেশাও করিতো৷ বলিতো, গাঁজা মিশাইয়া ধূমপান না করিলে নাকি তার কোষ্ঠ সাফ হয় না৷ হাগিয়া মজা মিলে না৷ এই নিয়া সে আমাদের গুরুজনদের কাছেও আসিয়া খেদোক্তি করিতো৷ বলিতো, আগামীকাল পরীক্ষা, অথচ সাঞ্জুমাঞ্জু খাওয়া হয় নাই৷ হাগা আটকাইয়া আছে৷ পড়িবো কী রূপে? ... আমরা মারধর খাইতাম৷

আজিজ এ ছাড়াও নানা অনৈতিক কর্ম করিতো৷ একদিন যেমন আমার এক মামাকে হাইজ্যাক করিয়া বসিলো৷ মামা অস্ফূটে বলিয়াছিলেন, আজিজ, তুমি ...৷ সে মামার গালে পটাং করিয়া এক চড় কষাইয়া বলিলো, কীসের আজিজ তুমি, কীসের আজিজ তুমি? মানিব্যাগ বাইর কর নাটকার জানা! মামা তো আসিয়া আমাকে পিটাইলেন৷ পরবর্তীতে আজিজ আবার অভিনয় করিয়া দেখাইলো, মামাকে সে কীরূপে প্রহার করিয়া মানিব্যাগ কাড়িয়া লইয়াছিলো৷ শত দুঃখেও হাসিলাম৷

একদিন পেপারে পড়িলাম, আজিজ মোহাম্মদভাই নামক জনৈক ব্যক্তির কাহিনী৷ ধনাঢ্য লম্পট৷ তাঁহার নামে ব্যাপক অভিযোগ৷ কিন্তু তিনি রমণীমোহন ব্যক্তি৷ তাবড় তাবড় নায়িকারা (নানা অর্থে) তাঁহার অঙ্কশায়িনী, শয্যা ভাগাভাগি করেন৷

আজিজ মুচকি হাসিলো৷ বলিলো, আজিজ নামক ব্যক্তিরা স্বাভাবিকভাবেই লেডিকিলার৷ নারীরা তাহাদের পৌরুষের কাছে ঘায়েল হয়৷ যেমন আজিজ মোহাম্মদভাই, যেমন আজিজ৷ সে কলার ঝাঁকাইয়া নিজেকে দেখাইলো৷

আজিজের দাপটে আমরা অতিষ্ঠ হইয়া পড়িলাম৷ তাহার মাগীবাজির নানা সত্যিমিথ্যা গল্প শোনা যাইতে লাগিলো তাহার নিকট হইতে৷ সে নাকি যাবতীয় নারী টিভিস্টারকে শয্যায় লইয়াছে, এবং তাহারা অনেকেই তাহার ক্রিয়াকলাপে মোহিত হইয়া পাওনা টাকা মকুফ করিয়া দিয়াছে৷ কেহ কেহ নাকি তাহাদের মাসতুতো ভগি্নদেরকেও তাহার কাছে পাঠাইবার কড়ার করিয়াছে৷ ভালো জিনিস নাকি ভাগাভাগি করিয়া লইতে হয়৷


২.

সেদিন বহুদিন বাদে আজিজের সহিত দেখা৷ আগের মত গুন্ডা সে আর নাই, বিবাহ করিয়াছে, কী একটা ব্যবসা করে৷ মাথায় টাক পড়িয়া গিয়াছে, চলনে বলনেও একটা ভীরু ভালোমানুষ ভাব৷

আমি প্রথমে তাহাকে চিনি নাই, সে-ই আগাইয়া আসিয়া বলিল, বন্ধু মুখফোড়, কেমন আছ?

আজিজকে চিনিতে পারিয়া আমি প্রফুল্ল হইতে পারিলাম না, বিশেষ করিয়া তাহার কারণে মামাকাকার হাতে ব্যাপক ধোলাই খাইয়াছি৷ কিন্তু সে যখন একরকম জোর করিয়া একটি খাবার দোকানে লইয়া পরটা-কাবাব ও চায়ের অর্ডার দিলো, তখন মানা করিতে পারিলাম না৷ আলকাত্‍রাও মাগনা পাইলে খাইব৷

তাহার এই অভূতপূর্ব পরিবর্তনের কারণ নাকি তাহার বউ৷ সে অতিশয় গুণবতী রমণী, সন্দেহ নাই, তাহার মত একটি লম্পটকে মানুষ করিয়া তুলিয়াছে৷

আমি বলিলাম, তারপর আজিজ, কী ব্যবসা করিতেছ বলিলে ...?

আজিজ চমকাইয়া উঠিয়া বলিল, খবরদার! ঐ নামে ডাকিও না! আমি এফিডাভিট করিয়া নাম পরিবর্তন করিয়াছি, এখন আমার নাম মোখলেছ ...! মোখলেছ ডাকিও!

আমি বীতশ্রদ্ধ হইয়া বলিলাম, কেন আজিজ এত খারাপ কী? আগে তো খুব জাঁক করিয়া বলিতে আজিজ নামের লোকজন বড় কামেল হইয়া থাকে ... নারীরা আসিয়া দলে দলে তাহাদের শিশ্নে আত্মসমর্পণ করে ...৷

আজিজ ওরফে মোখলেছ কাঁদ কাঁদ হইয়া বলিল, ভাই মুখফোড়, সেই দিন কি আর আছে? আগে মাথায় কেশ ছিল, এখন টাক পড়িয়া গিয়াছে৷ ইদানীং টাকমাথা লইয়া নিজের নাম আর আজিজ রাখিতে সাহস হয় না! তাছাড়া .. তাছাড়া ... আমি আগে দুর্বৃত্ত ছিলাম, কিন্তু ... নির্লজ্জ তো ছিলাম না কোন কালে!

আমি স্তব্ধ হইয়া রহিলাম৷ পরটা কাবাব আসিল৷

সে বলিল, লও খাও৷

আমি গদগদ স্বরে বলিলাম, বন্ধু মোখলেছ, ধন্য তোমার কান্ডজ্ঞান!


2 comments:

নাগরিক কবিয়াল said...

কি আর বলবো। জটায়ুর ভাষায় বলতে হয়, আমি স্তব্ধ ভাষ, রুদ্ধ শ্বাষ।

মুখফোড় said...

আপনার প্রতিক্রিয়া পড়িয়া আশঙ্কিত হইলাম। আশা রাখি সুস্থ হইয়া উঠিবেন।